শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০

পৃথিবীর অন্দরমহল (Interior of The Earth) অষ্টম শ্রেণি

 পৃথিবীর অন্দরমহল (Interior of The Earth) অষ্টম শ্রেণি

পাঠ্যপুস্তকে দেওয়া প্রশ্নগুলোর উত্তর এখানে আলোচনা করা হয়েছে


Q. পৃথিবীর যে শক্ত পিঠের ওপর আমরা আছি তার নীচে কি আছে?

A: উত্তপ্ত গলিত স্তর বা গুরুমন্ডল।


Q. কেউ কি কখনো দেখেছো পৃথিবীর ভেতর টা কেমন?

A: প্রত্যক্ষভাবে এখনও দেখা সম্ভব হয়নি। কিন্তু অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত লাভা দেখে পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে ধারণা করা যায়।

    এছাড়া ভূমিকম্পের তরঙ্গের গতিবিধি পর্যালোচনাঃ করে বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগের গঠন সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন।


Q. পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত দেখতে গেলে কত গভীর গর্ত খুঁড়তে হবে?

A: ৬৩৭০ কিলোমিটার গভীর গর্ত খুঁড়তে হবে।


Q. পৃথিবীর ভেতরটা কেমন তা কতটা জানা সম্ভব হয়েছে?

A: গভীর খনি, কৃত্রিম গর্ত, অগ্ন্যুৎপাতের ফলে ভূঅভ্যন্তর থেকে নির্গত পদার্থ(লাভা), ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবিধি পর্যালোচনাঃ করে পৃথিবীর অভ্যন্তরের গঠন, উপাদান, স্থিতিস্থাপকতা, গভীরতা প্রভৃতি সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়েছে।


Q. পৃথিবীর ভেতরটা সম্পর্কে মানুষ যতটা জেনেছে সেটুকু জানলো কিভাবে?

    A:  পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ থেকে যে সকল তথ্য মানুষ জেনেছে সেগুলি পর্যালোচনা করে পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ সম্পর্কে মানুষ ধারণা লাভ করেছে।

     মানুষ প্রধানত দুই ধরনের উৎস থেকে তথ্য আহরণ করেছে। যেমন-

প্রত্যক্ষ উৎস

        আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত, খনি খনন, মনুষ্য দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম গর্ত, উষ্ণ প্রস্রবনের জলের প্রকৃতি প্রভৃতি।


পরোক্ষ উৎস

    ১. মাধ্যাকর্ষণ সূত্র অনুসারে আবর্তনরত গলিত পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে ক্রমশ ভারি পদার্গুগুলো সঞ্চিত হয় এবং ঘনত্ব বৃদ্ধি পায়।

২. ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন তরঙ্গের(P,S,L) গতিবিধি পর্যালোচনা করে।

৩. ভূ-অভ্যন্তরে থাকা বিভিন্ন তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপস্থিতি।

৪. পৃথিবীর চুম্বকীয় মেরুর সময়ের সঙ্গে স্থান পরিবর্তন।


Q. কেন আমরা পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে পারিনা? অথবা, কেন আমরা পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে সরাসরি কোনো তথ্য পাই না?


    A: পৃথিবীর অভ্যন্তরে অত্যধিক তাপ এবং চাপের কারণে বেশি গভীরতা পর্যন্ত প্রবেশ করা সম্ভব হয়নি। খনি খনন , কৃত্রিম গর্ত নির্মাণ, আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্নুৎপাত, ভূমিকম্প তরঙ্গের গতিবিধি পর্যালোচনাঃ করে পৃথিবীর অভ্যন্তরের তিনটি স্তর(ভূত্বক, গুরুমণ্ডল, কেন্দ্রমণ্ডল)  সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা ধারণা দিয়েছেন। যথা- ভূত্বক গুরুমন্ডল এবং কেন্দ্রমন্ডল


      যে সকল কারণের জন্য পৃথিবীর অভ্যন্তর সম্পর্কে সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি সেগুলি হল-

১. অত্যধিক তাপ এবং চাপ

       ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গুলি অত্যধিক চাপ এবং তাপে অবস্থান করায় পদার্থ গুলি গলিত অবস্থায় রয়েছে। এ কারণে পৃথিবীর অভ্যন্তরে যাওয়া সম্ভব হয়নি।

২. অত্যধিক গভীরতা

       পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে হলে ৬৩৭০ কিলোমিটার গভীর গর্ত নির্মাণ করতে হবে যা অসম্ভব।

৩. অধিক উষ্ণতা

    পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রতি ৩৩ মিটার গভীরতায় প্রায় 1 ডিগ্রি সেলসিয়াস করে উষ্ণতা বৃদ্ধি পায়। পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে এই উষ্ণতা দাঁড়ায় ৫০০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এ কারণে পৃথিবীর অভ্যন্তরে যাওয়া যায়না।

৪. অক্সিজেনের অভাব

       ভূপৃষ্ঠ থেকে গভীরতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অক্সিজেনের পরিমাণ ধীরে ধীরে কমতে থাকে।ফলে অভ্যন্তরে অক্সিজেনের পরিমাণ অনেক কম হয়।


Q.পৃথিবীর কেন্দ্রের কাছে থাকা পদার্থগুলোর ঘনত্ব বেশি হয় কেন? অথবা, পৃথিবীর অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে ঘনত্বের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায় কেন?


A:ভূপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর কেন্দ্র পর্যন্ত যথাক্রমে ভূত্বক, গুরুমন্ডল এবং কেন্দ্রমন্ডল এই তিনটি স্তর রয়েছে। ভূত্বকের গড় ঘনত্ব 2.6 থেকে 3.3 গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার, গুরুমন্ডল এর গড় ঘনত্ব 3.4 থেকে 5.6 গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার। কেন্দ্রমন্ডলের গড় ঘনত্ব 9.1 থেকে 13.1 গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটার।

পৃথিবীর অভ্যন্তরের বিভিন্ন স্তরের মধ্যে ঘনত্বের পার্থক্যের কারণ

ভারী উপাদানগুলির দ্রুত থিতিয়ে যাওয়া

      পৃথিবী সৃষ্টির সময় একটি জ্বলন্ত গ্যাসীয় পিণ্ড ছিল। পরবর্তীতে তাপ বিকিরণ এর ফলে পৃথিবী উত্তপ্ত তরল অবস্থায় পরিণত হয়। এই সময় পৃথিবীর কেন্দ্রমুখী আকর্ষণের জন্য অপেক্ষাকৃত ভারী এবং ঘন উপাদানগুলি (নিকেল, লোহা প্রভৃতি) দ্রুত নিচের দিকে থিতিয়ে পড়ে ফলে কেন্দ্রের দিকে ঘনত্ব বেশি হয়।

অত্যধিক চাপ

       পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকে উষ্ণতা অত্যাধিক বেশি হলেও চাপ খুব বেশি হওয়ার জন্য উপাদানগুলি ঘন ও স্থিতিস্থাপক অবস্থায় থাকে।

পৃথিবীর আকৃতি

         পৃথিবীর গোলাকার আকৃতি এবং আবর্তন গতির জন্য কেন্দ্রের দিকে ভারি উপাদান ও উপরের দিকে হালকা উপাদানগুলি অবস্থান করছে।


Q. গুরুমন্ডল ও কেন্দ্রমন্ডলের প্রায় একই রকম পুরু কিন্তু পৃথিবীর মোট আয়তনের প্রায় 84 শতাংশ দখল করে আছে গুরুমন্ডল এটা কিভাবে বা কেন হয় বলতে পারো?


      A: আমরা জানি একই ব্যাসার্ধ যুক্ত অন্তর্বৃত্তের তুলনায় পরিবৃত্তের ক্ষেত্রফল বেশি হয়।পৃথিবীর কেন্দ্রমন্ডল এর তুলনায় গুরুমন্ডল এর আয়তন প্রায় তিনগুণ হওয়ার কারণ হল-
         কেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর কেন্দ্র সংলগ্ন অঞ্চল নিয়ে গঠিত। প্রায় একই পুরুত্ব যুক্ত গুরুমন্ডল কেন্দ্রমন্ডলের বাইরে পরিবৃত্তের মত। একারণে কেন্দ্রমন্ডলের তুলনায় গুরুমন্ডল এর আয়তন অনেক বেশি।

Q. ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে তফাৎ কি? বা ম্যাগমা ও লাভার মধ্যে পার্থক্য কি? 

 
Ans:
১. সংজ্ঞা
          ভূ-অভ্যন্তরে পদার্থ গুলি প্রচণ্ড চাপ এবং তাপে গলিত অবস্থায় থাকলে তাকে  ম্যাগমা বলে।
        ম্যাগমা কোন ছিদ্রপথ বা ফাটল দিয়ে ভূপৃষ্ঠে নির্গত হলে তাকে লাভা বলে।

২. গ্যাস এবং বাসবো
       ম্যাগমা বিভিন্ন গ্যাস এবং বাষ্প মিশ্রিত থাকে।
লাভার সঙ্গে গ্যাস ও বাষ্প মিশ্রিত থাকে না।

৩. তাপমাত্রা
       ম্যাগমার তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি হয় কিন্তু লাভার তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হয়।

৪. কঠিন হওয়ার হার
     ম্যাগমা ধীরে ধীরে জমাট বেঁধে কঠিন শিলায় পরিণত হয়।
     লাভা দ্রুত জমাট বেঁধে কঠিন শিলায় পরিণত হয়।

৫. ভূমিরূপ
      ম্যাগমা জমাটবদ্ধ হয়ে সিল , ডাইক , ল্যাকোলিথ প্রভৃতি ভূমিরূপ সৃষ্টি হয়।
     লাভা জমাটবদ্ধ হয়ে লাভা মালভূমি , লাভা ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়।

৩টি মন্তব্য:

Monsoon Though (মৌসুমী ট্রাফ)//Break of Monsoon বা বৃষ্টিপাতের ছেদ//Onset Vortex//N.L.M.(Normal Limit of Monsoon)

 Monsoon Though (মৌসুমী ট্রাফ) কি?       বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে নিম্নচাপ অবস্থান করলে তাকে Though বলে। মৌসুমী বায়ু ভারতে আগমনের পূর্বে 5 ডিগ...