রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২০

মৌসুমি জলবায়ু (Monsoon Climate)

 মৌসুমি জলবায়ু (Monsoon Climate) মৌসুমি জলবায়ু কাকে বলে? মৌসুমি জলবায়ুর অবস্থান। মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলের বৈশিষ্ট্য।



মৌসুমি কথাটির উৎপত্তি আরবি শব্দ মৌসিম(Mousim) বা মালয় শব্দ মনসিন(Monsin) থেকে এসেছে। যার অর্থ ঋতু

      মৌসুমির শব্দটি এক বিশেষ ধরনের ঋতুভিত্তিক নিয়মিত এবং ধারাবাহিক বায়ুপ্রবাহ। গ্রীষ্ম ঋতুতে এই বায়ু যে দিক থেকে প্রবাহিত হয় শীত ঋতু কে ঠিক তার বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত হয়। অর্থাৎ শীত এবং গ্রীষ্মে পরস্পর বিপরীত দিক থেকে প্রবাহিত এই বায়ুপ্রবাহকে মৌসুমি বায়ু বলে।

মৌসুমি জলবায়ু অঞ্চল


মৌসুমি জলবায়ুর ভৌগোলিক অবস্থান (Geographical Location of Monsoon Climate)

অক্ষাংশগত অবস্থান

         মৌসুমি জলবায়ু আদ্র ক্রান্তীয় অঞ্চলের জলবায়ু হলেও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের কোন কোন স্থানে এই জলবায়ু দেখা যায়। নিরক্ষরেখার উভয় দিকে 10°থেকে 24°অক্ষাংশের মধ্যে এই জলবায়ু দেখা যায়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এই জলবায়ুর বিস্তার 30° অক্ষরেখা পর্যন্ত।

দেশীয় অবস্থান

          দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, মায়ানমার, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনস প্রভৃতি দেশে এবং আংশিকভাবে তাইওয়ান, কোরিয়া, জাপান, কম্বোডিয়া প্রভৃতি দেশে এই জলবায়ু দেখা যায়।

মৌসুমি জলবায়ুর বৈশিষ্ট্য

         এই জলবায়ুর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বিভিন্ন ঋতুর উপস্থিতি।

উষ্ণতা সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য

i) মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে বার্ষিক গড় উষ্ণতার পরিমাণ 28°সেলসিয়াস।

ii) এখানে গ্রীষ্মকালীন গড় উষ্ণতা থাকে 27°থেকে 32°সেলসিয়াস।

iii) শীতকালীন গড় উষ্ণতা থাকে 10°থেকে 22°সেলসিয়াস।

iv) বার্ষিক গড় উষ্ণতার প্রসর 3°থেকে 11°সেলসিয়াস।

v) স্থানভেদে দৈনিক উষ্ণতার প্রসর পরিবর্তিত হয়।

vi) পার্বত্য অঞ্চলে উষ্ণতা অনেক সময় হিমাঙ্কের নিচে নেমে যায়।

বায়ুচাপ ও বায়ুপ্রবাহ সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য

i) গ্রীষ্মকালে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পতিত হওয়ায় স্থলভাগের উপর নিম্নচাপ সৃষ্টি হয়। বাতাসের চাপ থাকে 999 থেকে 1008 মিলিবার

ii) শীতকালে সূর্যরশ্মি তীর্যকভাবে পতিত হওয়ায় স্থলভাগে উচ্চচাপ বিরাজ করে। বায়ুচাপ থাকে 1014 থেকে 1028 মিলিবার

iii) গ্রীষ্মকালে মে ও জুন মাসে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে লু, আধি দেখা যায়।

iv) গ্রীষ্মকালে স্থলভাগের উপর অবস্থিত নিম্নচাপ কেন্দ্রের দিকে সমুদ্রের উপর দিয়ে আদ্র বায়ু প্রবাহিত হয়। পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ায় এই বায়ুকে

 দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু বলে।


v) শীতকালে স্থলভাগে অবস্থিত উচ্চচাপ থেকে বাতাস সমুদ্রে অবস্থিত নিম্নচাপের দিকে প্রবাহিত হয়। এই বাতাস শুষ্ক ও শীতল হয়। ভারতীয় উপমহাদেশে একে উত্তর-পূর্ব মৌসুমি বায়ু বলে।


বৃষ্টিপাত সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য

i) গ্রীষ্মকালে মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে কোথাও কোথাও বিকালের দিকে বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টিপাত হয়। একে পূর্ব ভারতে কালবৈশাখী এবং দক্ষিণ ভারতে আম্রবৃষ্টি বলে।

ii) বর্ষাকালে সমুদ্র থেকে আগত আদ্র বায়ু (দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু) প্রবাহিত হয়। ফলে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের 80-90 শতাংশ এই বায়ুর প্রভাবে হয়ে থাকে। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ 100 থেকে 150 সেন্টিমিটার হয়।

iii) বৃষ্টিপাতের অসম বন্টন এই জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য। যেমন-মৌসিনরামে(1392 সেন্টিমিটার) পৃথিবীর সর্বাধিক বৃষ্টি হয়। কিন্তু পশ্চিমঘাট পর্বতের পূর্ব ঢালে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ 50 সেন্টিমিটার।

iv) বৃষ্টিপাতের সময় এবং পরিমাণে অনিশ্চয়তা থাকে।

v) মৌসুমী বায়ুর খামখেয়ালীপনা স্বভাবের জন্য কখনো কখনো অতি বৃষ্টিপাত হয়।

vi) শীতকালে কোথাও কোথাও পশ্চিমী ঝঞ্ঝার জন্য সামান্য বৃষ্টিপাত হয়।

vii) মৌসুমী বৃষ্টিপাতের অধিকাংশ শৈলোৎক্ষেপ হলেও পরিচালন ও ঘূর্ণবৃষ্টি বৃষ্টি এই জলবায়ু অঞ্চলের নানা স্থানে লক্ষ্য করা যায়।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Monsoon Though (মৌসুমী ট্রাফ)//Break of Monsoon বা বৃষ্টিপাতের ছেদ//Onset Vortex//N.L.M.(Normal Limit of Monsoon)

 Monsoon Though (মৌসুমী ট্রাফ) কি?       বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে নিম্নচাপ অবস্থান করলে তাকে Though বলে। মৌসুমী বায়ু ভারতে আগমনের পূর্বে 5 ডিগ...