বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২০

পৃথিবীর উৎপত্তি সংক্রান্ত বিষয়ে ইমানুয়েল কান্টের গ্যাসীয় মতবাদ

 ইমানুয়েল কান্টের(Immanuel Kant) জন্ম এপ্রিল ২২১৭২৪ - মৃত্যু ফেব্রুয়ারি ১২, ১৮০৪

ইমানুয়েল কান্টের(Immanuel Kant )গ্যাসীয় মতবাদ


জার্মান দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট 1755 সালে পৃথিবীর উৎপত্তি সম্পর্কে তার মতবাদ প্রকাশ করেন। পৃথিবীর উৎপত্তি সম্পর্কে এই মতবাদটি প্রাচীনতম মতবাদ গুলির অন্যতম। এটি 1734 সালে ইমানুয়েল সুইডেনবার্গ এর প্রাচীন নীহারিকার ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত। মতবাদটিতে ইমানুয়েল কান্ট নিউটনের মহাকর্ষ শক্তিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।

Add caption




মতবাদটির মূল কথা

          ইমানুয়েল কান্টের মতে আজ যেখানে সৌরজগৎ অবস্থিত সেখানে বহু কোটি বছর আগে কঠিন পদার্থ কনায় পূর্ণ ছিল এবং কণাগুলি ছিল নিশ্চল ও শীতল। মধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে কণাগুলি একে অপরের ওপর আছড়ে পড়তে থাকে। তার ফলে প্রচন্ড তাপ ও গতির সৃষ্টি হয়। ফলস্বরূপ কণাগুলি সম্মিলিতভাবে ঘুরতে থাকে।

        ঘূর্ণন ক্রমশ বাড়তে থাকলে অতি উত্তপ্ত বিশাল আকার দেশীয় পিণ্ডটি নীহারিকা নামে পরিচিত হয়। প্রচন্ড বেগে ঘুরছে থাকার জন্য নীহারিকার নিরক্ষীয় তল বরাবর বিপুল পরিমাণ কেন্দ্রাতিগ বল বা কেন্দ্র বহির্মুখী বলের উৎপত্তি হয়।


       মধ্যাকর্ষণ বলের তুলনায় যখন কেন্দ্রাতিগ বল বা কেন্দ্রবহির্মুখী বল বেশি হয় তখন নীহারিকার প্রান্তসীমা থেকে গ্যাসীয় পদার্থ একটার পর একটা বলয়ের আকারে ছিটকে বেরিয়ে যায়। বলয়গুলি ঘনীভূত হয়ে গ্রহের সৃষ্টি করে।

           নতুন সৃষ্টি হওয়া গ্রহগুলি থেকে একই প্রক্রিয়ায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বলয় বিচ্ছিন্ন হয় এবং তারা ঘনীভূত হয়ে উপগ্রহ সৃষ্টি করে। নীহারিকার মূল অংশ সূর্য আকারে অবস্থান করে।

         
ইমানুয়েল কান্টের গ্যাসীয় মতবাদ


মতবাদের সুবিধা


  1. কান্টের মতবাদ টি সরল ও সাধারণের বোঝার উপযোগী।
  2. মতবাদটিতে সূর্য গ্রহ এবং উপগ্রহ কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
  3. এই মতবাদে মধ্যাকর্ষণ শক্তির উপযোগিতা এবং প্রয়োগ দেখানো হয়েছে।
  4. কান্টের আগে সৌর জগতের উৎপত্তি বিষয়ে এত সুন্দর ব্যাখ্যা অন্য কেউ দেয়নি।

মতবাদের সমালোচনা


  1. গ্যাসীয় মেঘপুঞ্জ সৃষ্টিকারী নিশ্চল ও অতি শীতল কণার উৎপত্তির বিষয়ে কান্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
  2. কনাগুলির মধ্যে অভিকর্ষজ বলের উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে তার ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
  3. এই মতবাদে কৌণিক ভরবেগের সংরক্ষণ সূত্র মানা হয়নি।
  4. এই মতবাদ অনুসারে গ্রহ-উপগ্রহগুলি সৃষ্টি হলে তাদের সকলের আবর্তনের অভিমুখে একই দিকে হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে তার ব্যতিক্রম ঘটেছে।
  5. ঘূর্ণায়মান নীহারিকাটির আয়তন বৃদ্ধি পেলে নীহারিকার গতিবেগ বৃদ্ধি পাওয়ার ব্যাপারে কান্টের ব্যাখ্যা বিজ্ঞানীরা মানেন না।


     পোস্টটি সম্পর্কে আপনার মতামত অবশ্যই লিখে জানাবেন। ভালো লাগলে অবশ্যই পরিচিতদের মধ্যে অনুগ্রহ করে শেয়ার করবেন।

৭টি মন্তব্য:

Monsoon Though (মৌসুমী ট্রাফ)//Break of Monsoon বা বৃষ্টিপাতের ছেদ//Onset Vortex//N.L.M.(Normal Limit of Monsoon)

 Monsoon Though (মৌসুমী ট্রাফ) কি?       বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে নিম্নচাপ অবস্থান করলে তাকে Though বলে। মৌসুমী বায়ু ভারতে আগমনের পূর্বে 5 ডিগ...