শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

মৃত্তিকা পরিলেখ (Soil Profile)

          

       ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগে যে আলগা শিলাস্তর দেখা যায় এবং যা জৈব পদার্থের(Organic Matter) সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে তাকে মাটি বলে। মাটি বা মৃত্তিকা (Soil) বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন রকমের হয় এবং তাদের গভীরতাও বিভিন্ন হয়।

                  




            মৃত্তিকা পরিলেখ(Soil Profile)


       উপযুক্ত পরিবেশে যে পরিণত মৃত্তিকা সৃষ্টি হয় সেই মৃত্তিকার প্রস্থচ্ছেদ করলে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে কয়েকটি স্তর বা হরাইজন দেখা যায়। মৃত্তিকার এই প্রস্থচ্ছেদ কেই মৃত্তিকা পরিলেখ বলে।


             স্তরগুলি পাললিক শিলার স্তরের মত নয়। রেগোলিথ এর উপরে অবস্থিত সহজ দ্রবণীয় পদার্থ ভৌত প্রক্রিয়ায় নিচের দিকে নেমে যায় ও সঞ্চিত হয়। ফলে বিভিন্ন গভীরতায় মৃত্তিকার ভৌত, রাসায়নিক এবং জৈব বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য দেখা যায়। 


মৃত্তিকা বিজ্ঞানীগণ মৃত্তিকার পাঁচটি প্রধান স্তর চিহ্নিত করেছেন। যেমন- O,A,B,C এবং D. নিম্নে এই স্তরগুলি সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।


1. জৈব হরাইজন বা O হরাইজন (Organic Horizon or O horizon)

          ভূপৃষ্ঠের ঠিক উপরে জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ স্তরটিকে জৈব হরাইজন বা O হরাইজন বলে। জৈব পদার্থের প্রকৃতিগত পার্থক্যের ভিত্তিতে স্তরটিকে Oi,Oe এবং । Oa এই তিন ভাগে ভাগ করা যায়।


      Oi স্তর

 জৈব স্তরের একেবারে উপরিভাগে উদ্ভিদ থেকে সদ্য পতিত পাতা ফুল ফল ইত্যাদি সঞ্চিত হয় যা Oi উপস্তর নামে পরিচিত। এই স্তরটিকে Oi উপস্তরও বলে।


      Oe স্তর

Oi স্তরের ঠিক নিচে Oe স্তরটি অবস্থিত। স্তরটিতে জৈব পদার্থের আংশিক বিকৃতি হয় অর্থাৎ পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদির গঠন চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। এই উপস্তরটিকে Aoo উপস্তর বলা হয়।


      Oa স্তর

Oe স্তরের ঠিক নিচে Oa স্তরটি অবস্থিত। এই স্তরে জৈব পদার্থ সম্পূর্ণ জারিত অবস্থায় থাকে। ফলে পাতা, ফুল, ফল ইত্যাদি শনাক্ত করা সম্ভব হয়না। একে Aooo উপস্তর বলে।



2. A হরাইজন (A Horizon)

     O হরাইজন এর নিচে A হরাইজন অবস্থিত। এই স্তর থেকে মূল মৃত্তিকার শুরু। এটি খনিজ পদার্থ দ্বারা গঠিত কিন্তু স্তরটির উপরিভাগে জৈব স্তর অবস্থিত হওয়ায় স্তরটি জৈব পদার্থ যুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে মৃত্তিকার রং হয় কালো।

         স্তরটি তিনটি উপস্তরে বিভক্ত। যথা-


    A1 উপস্তর

A হরাইজন এর উপরের স্তর জৈব পদার্থ মিশ্রিত থাকায় এর রং কালো হয়। পডসল মৃত্তিকায় এই উপস্তরটির গভীরতা কম হয় এবং চারনোজেম মৃত্তিকায় এই উপস্তরের গভীরতা বেশি হয়।


    A2 উপস্তর

A1 উপস্তরের নিচে অবস্থিত এই স্তরটি খনিজ পদার্থ দ্বারা গঠিত। এলুভিয়েশন সর্বাধিক কার্যকরী হওয়ায় উপস্তর টির রং হয় হালকা ও ধূসর।


    A3 উপস্তর

A ও B স্তরের মধ্যবর্তী উপস্তর। উপস্তর টিতে উভয় স্তরের বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা গেলেও A স্তরের বৈশিষ্ট্য বেশি থাকে।



3. B হরাইজন (B Horizon)

A স্তরের নিচে অবস্থিত। A স্তর থেকে ধৌত প্রক্রিয়ায় আগত পদার্থসমূহ সঞ্চিত হয় অর্থাৎ ইলুভিয়েশন প্রক্রিয়া এই স্তরে কার্যকরী হয়। স্তরটি মূলত খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ হলেও মূলত জৈব পদার্থ সঞ্চিত হওয়ার ফলে স্তরটির রং গাঢ় হয়। এই স্তরটিতে প্রচুর খাদ্য মৌল সঞ্চিত থাকে।


     স্তরটির তিনটি উপস্তর রয়েছে।


  B1 উপস্তর

B স্তরের উপরিভাগে অবস্থিত। A স্তর সংলগ্ন থাকায় A ও B উভয় স্তরের বৈশিষ্ট্য দেখা যায় কিন্তু B স্তরের বৈশিষ্ট্য অধিক থাকে।


 B2 উপস্তর

B1 উপস্তর এর নিচে অবস্থিত। A স্টোর থেকে আগত খনিজ পদার্থ যেমন-খনিজ লবণ, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, ক্যালসিয়াম সালফেট ইত্যাদি সঞ্চিত হয়। এই কারণে একে ইলুভিয়েটেড স্তর বলে।


B3 উপস্তর

B2 উপস্তরের নিচে অবস্থিত। উপস্তর টিতে B এবং C স্তরের বৈশিষ্ট্য দেখা যায় কিন্তু B স্তরের বৈশিষ্ট্য বেশি থাকে।


4. C হরাইজন (C Horizon)

     B স্তরের নিচে অবস্থিত। স্তরটি আবহবিকৃত পদার্থ দ্বারা গঠিত। মূলশিলা বা আদিশিলা আবহবিকার প্রাপ্ত হয়ে এই স্তরটি তৈরি হয়। আবহবিকার প্রক্রিয়া ক্রমাগত চলতে থাকলে স্তরটি B স্তরে পরিণত হয়। স্তরটিতে দুটি উপস্তর রয়েছে।


   C1 উপস্তর

C স্তরের উপরে অবস্থিত। সুক্ষ সুক্ষ শিলা চূর্ণ দ্বারা উপস্তরটি গঠিত।


   C2 উপস্তর

C1 উপস্তরের নিচে অবস্থিত। এখানকার শিলাচূর্ণ গুলি অপেক্ষাকৃত বড় হয়। এগুলি সামান্য পরিবর্তিত অবস্থায় থাকে।



5. D হরাইজন (D Horizon)

    এই স্তরটি মূল শিলাস্তর বা জনক শিলাস্তর। এই শিলা আবহবিকার প্রাপ্ত হয়ে পরবর্তীতে মাটি সৃষ্টি করে।


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Monsoon Though (মৌসুমী ট্রাফ)//Break of Monsoon বা বৃষ্টিপাতের ছেদ//Onset Vortex//N.L.M.(Normal Limit of Monsoon)

 Monsoon Though (মৌসুমী ট্রাফ) কি?       বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে নিম্নচাপ অবস্থান করলে তাকে Though বলে। মৌসুমী বায়ু ভারতে আগমনের পূর্বে 5 ডিগ...