শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২০

বিভিন্ন প্রকার প্রবাল প্রাচীর (Different Types of Coral Reef)

                      


                   প্রবাল প্রাচীর



25 ডিগ্রি উত্তর থেকে 25 ডিগ্রি দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে কম গভীরতা যুক্ত উষ্ সমুদ্রে নিমজ্জিত সমুদ্র মঞ্চের ওপর এক ধরনের প্রবাল কীট জন্মায়। যাদের দেহ ক্যালসিয়াম কার্বনেট  বা চুনের একটি শক্ত খোলস দ্বারা ঢাকা থাকে। এই ধরনের প্রবাল কীট গুলি ঝাকে ঝাকে একটি উপনিবেশ বা কলোনি গঠন করে অবস্থান করে। প্রবাল কীট গুলি মারা যাওয়ার পর চুন জাতীয় দেহাবশেষ সঞ্চিত হয় এবং পরবর্তীতে প্রবাল প্রাচীর নামে পরিচিতি লাভ করে।









প্রবাল প্রাচীরের বৈশিষ্ট্য


1. অবস্থান

       ক্রান্তীয় অঞ্চলের (25°উ:-25° দ:) অগভীর (60-70 মি) উষ্ণ সমুদ্রে প্রবাল প্রাচীর সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়।


2. বর্ণ বা রং

    প্রবাল কীট গুলির রং সবুজ, হলুদ, ধূসর, বাদামি, গোলাপি প্রভৃতি রংয়ের হয়।

     

3. গঠনগত উপাদান

    মূলত চুনাপাথর, ডলোমাইট দ্বারা তৈরি এক উল্লেখযোগ্য ভূমিরূপ যা ক্যালসিয়াম কার্বনেট নিঃসরণকারী কোরাল পলিপ এর মৃতদেহের সঞ্চয়।


4. মূল্য

   মূল্যবান সামুদ্রিক রত্নের প্রধান উৎস প্রবাল প্রাচীর।



5. জীব বৈচিত্র

    প্রবাল প্রাচীর এ প্রায় 10 লক্ষ প্রজাতির প্রবাল থাকে তাই প্রবাল প্রাচীর কে সামুদ্রিক বৃষ্টি অরণ্য বলা হয়।





প্রবাল প্রাচীর গঠনের অনুকূল অবস্থা


        পৃথিবীর সব স্থানে প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠে না। প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠার জন্য কয়েকটি পৃথক অবস্থার প্রয়োজন। সেগুলি হল-


1. জলের উষ্ণতা

         প্রবাল কীট বৃদ্ধির জন্য 20°C- 21°C উষ্ণতার প্রয়োজন হয়। এ কারণে প্রবাল প্রাচীর ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রে দেখতে পাওয়া যায়।



2. গভীরতা

    প্রবাল কীট ভালোভাবে বৃদ্ধির জন্য সমুদ্র জলের  গভীরতা 60 থেকে 75 মিটার হওয়া প্রয়োজন। কারণ এই গভীরতা পর্যাপ্ত সূর্যালোক এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের যোগান থাকে।



3. জলের লবনতা

     সমুদ্র জলের লবনতা বৃদ্ধি পেলে প্রবাল কীট এর প্রধান খাদ্য ক্যালসিয়াম কার্বনেট এর পরিমাণ কমে যায়। এই কারণে 27%০ থেকে 40%০  লবনতা যুক্ত সমুদ্র জল প্রবাল  প্রাচীর গড়ে ওঠার জন্য আদর্শ।


4. পলিমুক্ত জল

     প্রবাল কীট এর মুখে পলি কণা জমে গেলে অক্সিজেন নিতে পারে না। ফলে প্রবাল কীট মারা যায়। একারণে পলিমুক্ত স্বচ্ছ জল প্রয়োজন। এই কারণে নদীর মোহনা থেকে দূরে প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠে।



5. সমুদ্রস্রোত ও সমুদ্রতরঙ্গ

      সমুদ্রস্রোত ও সমুদ্রতরঙ্গ প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠার পক্ষে আদর্শ। কারণ এগুলি প্রবাল কীট এর জন্য খাদ্য সরবরাহ করে। এই কারণে আবদ্ধ সমুদ্রে প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠে না।


6. অন্ত:সাগরীয় মঞ্চ

       সমুদ্রের 90 থেকে 100 মিটার গভীরতা  নিরেট শিলার উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন। যা মঞ্চ বা প্ল্যাটফর্মের মত কাজ করবে। এই মঞ্চ এ পরবর্তীতে প্রবাল কীট গুলি উপনিবেশ স্থাপন করে।


Add caption








প্রবাল প্রাচীরের শ্রেণীবিভাগ


       ক্রান্তীয় অঞ্চলে অগভীর সমুদ্রের তলদেশে সবুজ, সাদা, হলুদ ইত্যাদি নানা রঙের প্রবাল কীটের সঞ্চয় হয় এবং এদের চুন জাতীয় দেহ সঞ্চিত হয়ে জমাট বেঁধে চুনাপাথর সৃষ্টি করে। এই চুনাপাথর সঞ্চয় দীর্ঘাকৃতি বা বলয় আকারে সঞ্চিত হলে তাকে প্রবাল প্রাচীর বলে। 


       উৎপত্তির পর্যায় ও প্রকৃতি অনুসারে প্রবাল প্রাচীর কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।



1. প্রান্ত দেশীয় প্রবাল প্রাচীর (Fringing Reef)

        সমুদ্র উপকূল বা দীপের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় সংকীর্ণ ও বড় আকারে যে প্রবাল প্রাচীর গড়ে ওঠে, তাকে প্রান্ত দেশীয় প্রবাল প্রাচীর বলে। এটি যেকোনো প্রবাল প্রাচীর গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে কে নির্দেশ করে।



বৈশিষ্ট্য:

এই ধরনের প্রবাল প্রাচীর উপকূলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে।

এগুলি দৈর্ঘ্য-প্রস্থে কম অর্থাৎ আয়তনে ছোট হয়।

সমুদ্রের দিকের অংশটি অপেক্ষাকৃত উঁচু হয়।

এর উপরিভাগ অসমতল হয় ও ভাঁজ যুক্ত হয়।

অনেক সময় প্রধান ভূখণ্ড ও প্রান্ত দেশীয় প্রবাল প্রাচীরের মধ্যবর্তী অংশে সংকীর্ণ উপহ্রদ বা লেগুন থাকে যাকে Boat Channel বলে।



  

উদাহরণ:

     ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং লাক্ষা দ্বীপের চারপাশে প্রান্ত দেশীয় প্রবাল প্রাচীর দেখা যায়।



2 প্রতিবন্ধক প্রবাল প্রাচীর (Barrier Reef)


       সমুদ্র উপকূল বা দ্বীপ থেকে কিছুটা দূরে (কয়েক মিটার থেকে 5 কিলোমিটার) উপকূলের সমান্তরালে গড়ে ওঠা প্রবাল প্রাচীর কে প্রতিবন্ধক প্রবাল প্রাচীর বা বেরিয়ার রিফ বলে। নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে বলে একে প্রতিবন্ধক প্রবাল প্রাচীর বলে।



বৈশিষ্ট্য:

মূল ভূখণ্ড থেকে গভীর ও বিস্তৃত জলভাগ দ্বারা বিচ্ছিন্ন থাকে।

এর গড় ঢাল 45° হলেও কিছুকিছু প্রাচীরের ঢাল 15° থেকে 25°।

এগুলি বৃহদায়তন, অধিক বিস্তৃত এবং প্রশস্ত হয়।

উপকূল এবং প্রাচীরের মধ্যে অগভীর এবং প্রশস্ত লেগুন বা উপহ্রদ থাকে।

এইগুলি একটানা না হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়। বিচ্ছিন্ন অংশ দিয়ে জোয়ারের জল প্রবেশ করে।


 

উদাহরণ

    অস্ট্রেলিয়ার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত গ্রেট বেরিয়ার রিফ পৃথিবীর বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর।


3. অ্যাটল (Atoll)

     

      সমুদ্রের মধ্যে মোটামুটি বলয়ের আকারে যে সকল খাড়া ঢাল বিশিষ্ট প্রবাল প্রাচীর গঠিত হয় তাদের অ্যাটল বা প্রবাল বলয় বলে।



উৎপত্তি

     সমুদ্রের মধ্যে আগ্নেয়গিরির চারপাশে প্রতিবন্ধক প্রবাল প্রাচীর গঠিত হওয়ার পর আগ্নেয়গিরি নিমজ্জিত হলে তার সঙ্গে  সঙ্গতি রেখে প্রবাল প্রাচীর উপরের দিকে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আগ্নেয়গিরি সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হলেও প্রবাল প্রাচীর এর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে। ফলে সমুদ্র জলতলের উপর প্রবাল প্রাচীর বলয় এর আকারে অবস্থান করে।



বৈশিষ্ট্য

এদের আকৃতি বৃত্তাকার বা উপবৃত্তাকার।

এর মধ্যবর্তী অংশে অগভীর উপহ্রদ থাকে যার গভীরতা 30 থেকে 50 মিটার।

অ্যাটল এর বহির্মুখী দেওয়াল অত্যন্ত ঢালু হয়।

অ্যাটল এ অনেক সংযোগকারী পরিখা বা Channel থাকে।

সমুদ্রগর্ভের কোন মালভূমি, পাহাড় বা গাউটের ওপর অ্যাটল গঠিত হয়।



উদাহরণ

     পূর্ব ফিজি অ্যাটল, এলিশ দ্বীপের ফুনাফুটি অ্যাটল।


২টি মন্তব্য:

Monsoon Though (মৌসুমী ট্রাফ)//Break of Monsoon বা বৃষ্টিপাতের ছেদ//Onset Vortex//N.L.M.(Normal Limit of Monsoon)

 Monsoon Though (মৌসুমী ট্রাফ) কি?       বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে নিম্নচাপ অবস্থান করলে তাকে Though বলে। মৌসুমী বায়ু ভারতে আগমনের পূর্বে 5 ডিগ...